আজ থেকে শত শত বছর আগে যখন আবিষ্কৃত হয়নি ভবন নির্মাণের আধুনিক সরঞ্জাম ও উপকরণ। অথচ সেই সময় পৃথিবীর বুকে এমন কিছু স্থাপনা তৈরি করেছিল তখনকার মানুষ, যাই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এস তৈরি করা বেশ কঠিন। এরকমটি দেখলে আপনি বিস্মিত হবেন,আর মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকবেন মানুষ এসব জায়গাতে কি? করে যায় তাদের ভয় করে না।
ফাঞ্জিং মাউন্টেন চীন ফাঞ্জিং মাউন্টেন চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গুইছ প্রদেশের টংন শহরের কাছে অবস্থিত এটি উঁচু পর্বত শ্রেণীর অংশ যেখানে সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি প্রায় ৮৪৩০ ফুট উঁচু যা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং বোর্ড খলিফারও তিন গুণের চেয়েও বড় এ পর্বতের দুটি প্রধান শৃঙ্গ রয়েছে যাদের নাম কিনপিং এবং ইয়াংচিং পাহাড়ের মাথা শ্বাস রুদ্ধকর এই দুটি স্থাপনা ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল ফাঞ্জিং মাউন্টেনে পৌঁছানো অত্যন্ত জটিল পাহাড়ে ভ্রমণ করার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং পথ অতিক্রম করতে হয় যদিও এর কিছু অংশে কেবলকার ব্যবহার করা যায়, ফাঞ্জিং পর্বতের চূড়া খুবই ধারালো এবং উঁচু যা পর্বতরোহীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ফাঞ্জিং মাউন্টেনের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে প্রায় ৮৮৮ টি ধাপ সিঁড়ি অতিক্রম করতে হবে।
এই সিঁড়িগুলি বেশ খাড়া এবং শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য শারীরিক সহনশীলতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন মাউন্টেনের চূড়ায় উঠতে সময় নির্ভর করে, আপনি কোন পথ বেছে নিচ্ছেন, এবং আপনার শারীরিক সামর্থ্যের উপর সাধারণত পায়ে হেঁটে মাউন্টেনের নিচ থেকে চূড়ায় উঠতে প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। তবে যদি আপনি কেবল কার ব্যবহার করেন তাহলে আপনার সময় অনেকটাই কমে যাবে কেবল কার আপনাকে পাহাড়ের বেশ উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাবে আর সেখান থেকে আপনি মাত্র এক থেকে দুই ঘন্টা সময় ব্যয় করেই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবেন।
পর্বতের নিচে একটি ধোঁয়াটে জলপ্রপাত রয়েছে যা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর, বর্ষাকালে পর্বতের চূড়া মেঘে ঢাকা থাকে যা দেখতে একদম মেঘের সাগরের মত, ফাঞ্চিং মাউন্টেন প্রায়ই মেঘের সমুদ্রের উপরে অবস্থান করে । ফলে এর চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশে কেবল মেঘের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়, এটি এমন একটি জায়গা যা পর্যটকদের আক্ষরিক অর্থেই মেঘের উপরে নিয়ে যায়। হাঞ্চিং পর্বত বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল, এখানে বিরল ও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণী পাওয়া যায়। পর্বতের নিচু অঞ্চলে সুন্দর ও মনোরম বন উঁচু অঞ্চলে ঝোপঝাড় এবং ঘাসের মাঠ দেখতে পাওয়া যায়, এখানে ২০০০ এর বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৯ টি বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যেগুলির মধ্যে কয়েকটিকে কেবলমাত্র এই অঞ্চলেই দেখতে পাওয়া যায় যেমন, গোল্ডেন স্নাব নোস্ট মানকি এই বানর প্রজাতিটি ফান্সিং মাউন্টেনের আশেপাশের বনাঞ্চলে বসবাস করে।
এটি অত্যন্ত বিরল এবং শীতল পরিবেশে বাস করার জন্য পরিচিত, এই বানরগুলো তাদের বিশেষ আকর্ষণীয় সোনালী রং এবং চ্যাপ্টা নাকের জন্য বিখ্যাত, এবং শুধুমাত্র চীনের কিছু অঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায়। ফাঞ্জিং মাউন্টেন লেফ্রাগাছস, এই বাদুর প্রজাতিটি কেবলমাত্র ফাঞ্চিং পর্বতে পাওয়া যায়, এবং এটি একটি স্থানীয় প্রজাতি চাইনিজ সালামান্ডার, এটি পৃথিবীর বৃহত্তম উভচর প্রাণী যা চীনের কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে এবং ফাঞ্জিং মাউন্টেনের জলাশয় গুলিতে পাওয়া যায়।
এটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে একটি ফাঞ্জিং গ্রাউন্ড থ্রু, এটি একটি স্থানীয় পাখি প্রজাতি যা শুধুমাত্র ফাঞ্জিং মাউন্টেনের জঙ্গলে বসবাস করে ক্লাউডেড লেপার্ড এই দুর্লভ বিপন্ন প্রজাতির বাঘ জাতীয় প্রাণীটি ফাঞ্জিং মাউন্টেনের জঙ্গলে দেখা যায়। যদিও এর সংখ্যা অনেক কম এ পর্বত প্রাকৃতিক জীববৈচিত্রের এক বিশাল ভান্ডার এ পর্বত বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের আবাসস্থল, এখানে হাজার হাজার প্রজাতির ফুল এবং গাছপালা দেখতে পাওয়া যায়। ফাঞ্জিং পর্বত তার অসাধারণ জীববৈচিত্র এবং ভূতাত্বিক গঠনের জন্য ২০০৮ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

0 Comments